শাকিব খানের দাপট বক্স অফিসে কিন্তু ঢালিউডে নেই তার অস্তিত্ব (ভিডিও)

Shakib Khan Box Office
Shakib Khan Box Office

বিশ্বে সিনেপ্রেমীদের কাছে অতি পরিচিত এক শব্দ ‘বক্স অফিস’। যার হিসেবের উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রের সফলতা কিংবা ব্যর্থতা যাচাই করা হয়। হলিউড ও বলিউডের মত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সিনেমা কি ধরনের রেকর্ড গড়লো, ফ্লপ হলো নাকি হিট হলো সেসব বিষয় জানা যায় বক্স অফিসের সুবাদে।

শুধু তাই নয়, প্রতিদিনের বক্স অফিস রিপোর্টেই বলে দেয় সিনেমাটির নির্মাণ, গল্প এবং এতে অভিনীত নায়ক নায়িকা ও শিল্পীদের গ্রহণযোগ্যতা। এছাড়াও এর সাহায্যে সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ এবং আকর্ষণও সৃষ্টি হয়।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এতো দীর্ঘ সময় পার হলে ঢালিউডে এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি কোন বক্স অফিসের ভিত্তি। আর তাই জানা সম্ভব হচ্ছে না ঢালিউডের কোন মুক্তি পাওয়া ছবির প্রতিদিনের ইনকাম। এতে করে ছবির প্রযোজকরা যেমন লগ্নি ফেরত পাচ্ছে না তেমনি সমস্যাই পড়ছে শিল্পীরা।

যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। এ বছর এখন পর্যন্ত তার কোন ছবি মুক্তি না পেলেও গেল বছর মুক্তি পায় তার আটটি ছবি। সব গুলো ছবি মুক্তিতেই সপ্তাহ জুড়ে দর্শক সমাগোম ছিল চোখে পড়ার মত। শুধু তাই নয় প্রতিটি ছবিই দুই, তিন, চার এমনকি পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত সারা দেশে টানা ব্যবসা করেছে। কিন্তু তারপরেও ব্যবসা শেষে দুই একটা ছবির প্রযোজক বলেন সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পায়নি। এ থেকে খুব সহজেই বোঝা যায়, ভালো সেল পাইলেও হল মালিকরা তার পরিপূর্ণ তথ্য দেন নি। এতে সুপারস্টার শাকিব খানের ছবির বদনাম ছাড়া সুনাম খুব কমেই আসবে। আর সে ছবি দিয়ে বহির্বিশ্বে প্রতিযোগিতার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হবে।

Dhallywood Actor
Dhallywood Actor

ঢালিউডে চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করা হয় শুধুমাত্র মানুষের মুখের কথায়। এ নিয়ে প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, সিনেমা হিট হলে হিট আর ফ্লপ হইলেও হিট। কারণ যদি ফ্লপ হয় আর বক্স অফিস থেকে যদি রিপোর্ট হয় সিনেমাটি ফ্লপ হয়েছে তাইলে সিনেমাটি ঐ হলেও চলবে না বা রিপোর্টটি যদি ছড়াইয়ে যায় তাইলে ছবিটা কোন জায়গায় চলবে না। যার জন্য প্রডিউসারের দিক থেকে, ডিস্ট্রিবিউশনের দিক থেকে এবং হলের দিক থেকে আমরা এখন সত্য বিষয়টা বলি না। যদি সুপার ডুপার হিট হয় তবে বলি কিন্তু ফ্লপ হলে একদমেই বলি না।

একই বিষয়ে মধুমিতা হলের মালিক ও চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতেও সিনেমা চলাকালীন সময়ে তারা সত্য তথ্য দেয় বক্স অফিসের মাধ্যমে কিন্তু আমাদের দেশে তা এখনও হয় না।

আর এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় হিসেবে তারা বলেন, ই-টিকেটিংটা যদি আমরা করতে পারি তবে আমাদের সেল রিপোর্টটা সবাই সবসময় জানতে পারবে। এটা ইন্টারনেটে চলে যাবে বা আমাদের সার্বারে চলে যাবে তখন এটার আর কোন সমস্যা হবে না। আর সবদেশের মত এটা আমাদেরও জানানো উচিৎ।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি যুগের সাথে এগিয়ে যেতে বক্স অফিসের রুপ দাঁড় করানো সময়ের দাবী বলে মনে করেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

ভিডিওঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here